গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুই টেলিভিশন সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একটি বিতর্কিত ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকরা তার বিরূপ আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার পর সাদুল্লাপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ধাপেরহাট এলাকায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে তারা এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি প্রথমে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা সরিয়ে রাখতে বলেন। পরে বুম ও ক্যামেরা দেখে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
তাদের দাবি, একপর্যায়ে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের হাতে থাকা বুম ও ক্যামেরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করতে বলেন। পরে তিনি সরকারি গাড়িতে করে কার্যালয় থেকে চলে যান।
সূত্র জানায়, ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণকৃত কিছু জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি অর্পিত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানার জমি হিসেবে উপস্থাপন করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ওই ক্ষতিপূরণের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন। তবে একই জমির ওপর মালিকানা দাবি করে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
স্থানীয়দের মতে, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও ক্ষতিপূরণ বিতরণের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। অভিযোগের সত্যতা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
