শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে দারুল হুদা মডেল মাদরাসা সরকারি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনের অনুমতি লাভ করেছে। এ অর্জনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে এলাকার শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দারুলহুদা মডেল মাদরাসার লক্ষ্য ছিল কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে একটি দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে এখন শিক্ষার্থীরা স্বীকৃত বোর্ডের অধীনে সনদ লাভের সুযোগ পাবে, যা তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কামাল আহমেদ ছৈয়াল বলেন,
“দারুলহুদা মডেল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পেছনে আমাদের স্বপ্ন ছিল—একটি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে দ্বীনি মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটবে। আজ সরকারি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। আমরা চাই, এখান থেকে এমন শিক্ষার্থী বের হয়ে আসুক যারা তাকওয়া, আদব-আখলাক ও দেশপ্রেমে হবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও বলেন,
“এই অর্জন কোনো এক ব্যক্তির নয়; এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ইনশাআল্লাহ জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হবে।”
পরিচালক এনামুল হক শামীম বলেন,
“সরকারি অনুমোদন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বের পাশাপাশি নৈতিকতাতেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক।”
তিনি জানান, ভবিষ্যতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অপর পরিচালক এনামুল হক সাদী বলেন,
“এই অনুমোদন আমাদের অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখন এলাকার শিক্ষার্থীরা দূরে না গিয়ে নিজ এলাকাতেই মানসম্মত ও স্বীকৃত মাদরাসা শিক্ষার সুযোগ পাবে।”
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি দীদার মাহদী বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ অনুগ্রহে দারুলহুদা মডেল মাদরাসা আজ সরকারি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের স্থাপনের অনুমতি লাভ করেছে। এটি শুধু প্রশাসনিক স্বীকৃতি নয়; এটি একটি আমানত, একটি দায়িত্ব এবং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য কেবল সনদ প্রদান নয়; বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নৈতিক, আদর্শবান ও যুগোপযোগী শিক্ষার্থী গড়ে তোলা। আমরা চাই, এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী জ্ঞান, চরিত্র ও মানবিক গুণাবলীতে হবে অনন্য। তারা সমাজে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”
প্রধান শিক্ষক জানান,
“সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে এখন আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে। আমরা মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং পরীক্ষার ফলাফলে উৎকর্ষ অর্জনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেব।”
তিনি সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের দোয়া, আন্তরিকতা ও সহযোগিতাই আমাদের মূল শক্তি। ইনশাআল্লাহ, দারুলহুদা মডেল মাদরাসাকে আমরা এমন একটি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করব, যা দ্বীনি শিক্ষার দৃঢ় ভিত্তির পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে অগ্রসর হবে।”
দারুলহুদা মডেল মাদরাসায় ইতোমধ্যে প্লে থেকে নবম পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও গণিতের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, হিফজ, আকীদা-আখলাক ও ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত দাওয়াতি, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে আলিম ও কামিল স্তর পর্যন্ত কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিজ্ঞানাগার ও আইসিটি ল্যাব স্থাপন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গঠন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ অর্জনের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এলাকাবাসী আশা করছেন, দারুল হুদা মডেল মাদরাসা অচিরেই দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে আদর্শ নাগরিক গঠনের এক উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
