চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘কমলা দোয়া’তে মাছ চাষের কাজে বিপুল পরিমাণ সরকারি সার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জলাশয় এলাকা থেকে প্রায় ৩০ বস্তা সার জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বিঘা আয়তনের কমলা দোয়ার প্রায় ৮০ বিঘা জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন শষ্টি মিয়া ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার শাহাবুদ্দিন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, শনিবার দুপুরে তাদের তত্ত্বাবধানে কয়েকজন জেলে বিপুল পরিমাণ সার নিয়ে জলাশয়ে প্রবেশ করেন এবং তা পানিতে প্রয়োগ করতে শুরু করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয়রা বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই প্রায় ১৪০ বস্তা সার জলাশয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আরও কয়েক ডজন বস্তা সার দেখতে পান। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার কীভাবে মাছের পুকুরে ব্যবহৃত হচ্ছে—এ প্রশ্নে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং কিছু স্থানীয় ব্যক্তি হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা ঢাকাভিত্তিক শ্রমিক দল নেতা লিটন জানান, জলাশয়ের পাশে বিপুল পরিমাণ সার দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তার ভাষ্য, মাছের পুকুরে এত বড় পরিসরে সার প্রয়োগ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবশিষ্ট প্রায় ৩০ বস্তা সার জব্দ করেন। তবে অভিযুক্তদের কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সার অবৈধভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো মামলা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত থাকতে পারে বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
ইউএনও তিথি মিত্র জানান, জব্দ করা সার উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতাদের উপজেলা কৃষি অফিসে তলব করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারি সার অপব্যবহারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় সরকারি সার সরবরাহ ও পাচারচক্রের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
