

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : মোঃ রাশিদুল ইসলাম
উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম অন্যতম। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ অসংখ্য নদ-নদীঘেরা এ জেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের বসবাস। জেলার ৯টি উপজেলায় রয়েছে চার শতাধিক চরাঞ্চল। কুড়িগ্রাম শহরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের বিনোদনের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পার্ক ছিল না।
শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদন ও মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতালের পাশে নিজস্ব ৭৩ শতাংশ জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি আধুনিক শিশুপার্ক। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে পার্কটি। জেলা পরিষদের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বর্তমানে পার্কের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নান্দনিক নকশায় গড়ে ওঠা পার্কটিতে শিশুদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভেঞ্চার কার, মেরি-গো-রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং রাইড ও হাতে চালিত রকারসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড। পাশাপাশি রয়েছে শিশুদের খেলার মাঠ। পার্কের সৌন্দর্য বাড়াতে চারদিকে স্থাপন করা হয়েছে সোলার স্ট্রিট লাইট। রয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, আধুনিক প্রবেশদ্বার এবং শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন ছবি ও স্লোগানসমৃদ্ধ দেয়ালচিত্র। নির্মাণাধীন অবস্থাতেই এসব স্থাপনা দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
জেলা পরিষদ অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, পার্কটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাল শেষ হওয়ার কথা ৩০ অক্টোবর ২০২৬। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
পার্ক নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান বলেন, নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষ। তবে এখনো হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই পার্কটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো হস্তান্তরের আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে পার্কটির কাজের মান ও সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিদর্শন দলকে পার্কটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পার্কটি উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
এদিকে রৌমারীর চারতলা ডাকবাংলো হস্তান্তরের আবেদন পাওয়ার পরও একই প্রক্রিয়ায় পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, কুড়িগ্রাম শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পার্ক না থাকায় নতুন শিশুপার্কটি দ্রুত সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পার্কটি চালু হলে শহরের শিশুদের জন্য এটি যেমন বিনোদনের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠবে, তেমনি পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর একটি নিরাপদ স্থানও তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।