চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : মোঃ আরিফুল ইসলাম
চালক সমাবেশ জামায়াতের এমপি প্রার্থী এডভোকেট রাসেল বলেন “আল্লাহ মানুষকে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনযাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিজ হাতে উপার্জন করে পরিবার চালান—তারা আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দাদের একটি শ্রেণি। সেই শ্রেণিতেই আছেন আমাদের চালক, কৃষক ও শ্রমিক ভাইয়েরা। আজ তাদের সেবা, তাদের ঘাম এবং তাদের ত্যাগেই আমাদের সমাজ টিকে আছে।”
মঙ্গলবার বেলা ৪ টার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী-আসমানখালী সাংগঠনিক থানা শাখা কর্তৃক আয়োজিত হয় চালক সমাবেশ। মোঃ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে ভাংবাড়ীয়া বাজার ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত উক্ত চালক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি পদপ্রার্থী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি চালকদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরে বলেন—
“ভ্যান, রিকশা, অটোর চালকরা না থাকলে আমাদের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে যেত। রোদে-ঝড়ে, শীতে-গরমে তারা মানুষের সেবা দিয়ে যান। একজন চালক অসুস্থ হলে হয়তো তাঁর পরিবার না খেয়ে থাকে—কিন্তু তিনি তবুও চাকার প্যাডেল থামান না। এমন মানুষের প্রতি সম্মান দেখানো শুধু মানবিকই নয়—ধর্মীয় দায়িত্বও।”
এরপর তিনি কৃষকদের নিয়ে বলেন—
“কৃষক ভাইদের কথা তো বলাই লাগে। তারা না থাকলে এই দেশের একটি ঘরেও ভাত উঠত না। তাদের ঘামে দেশের খাদ্য উৎপাদন হয়। অথচ দুঃখের বিষয়—ফসলের ন্যায্য দাম তারা পায় না। ঋণ, লোকসান, দালালের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা আজও অসহায়। কৃষককে বাঁচাতে পারলে দেশ বাঁচবে—এটা সবাইকে বুঝতে হবে।”
তিনি শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন—
“আমাদের শিল্পকারখানা, নির্মাণশিল্প, ইটভাটা, রাস্তাঘাট—সবকিছু শ্রমিকের ঘামে দাঁড়ানো। শ্রমিক যদি একদিন কাজ বন্ধ করে দেয়—পুরো দেশ থেমে যাবে। তাই শ্রমিক বিরোধী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কখনোই টেকসই হতে পারে না। শ্রমিকের সম্মান মানে দেশের সম্মান।”
এরপর তিনি তিন শ্রেণির ঐক্যকে দেশের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন—
“চালক, কৃষক ও শ্রমিক—এই তিন শ্রেণিই দেশের প্রকৃত সম্পদ। রাজনীতিবিদ বদলায়, ক্ষমতা বদলায়, কিন্তু তাদের ঘাম বদলায় না। তাই এই তিন পেশার মানুষকে উন্নয়নের মূলধারা থেকে বাদ রাখা অন্যায়, অবিচার এবং অপরাধ।”
ধর্মীয় অনুপ্রেরণার সুরে তিনি বলেন—
“রাসুল (সা.) বলেছেন, শ্রমিকের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আজ আমরা কি তা করছি? ন্যায্য মজুরি, ন্যায্য দাম, ন্যায্য অধিকার না পেলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি আমাদেরই করতে হবে।”
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশে তিনি বলেন—
“ইনশাআল্লাহ জনগণ যদি আমাদের সুযোগ দেন—চালকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণ তহবিল, কৃষকদের জন্য সুলভ মূল্যে সার-বীজ-সেচ সুবিধা, ফসলের ন্যায্য দাম, এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উন্নয়ন হবে মাঠে-ঘামে মাটির মানুষের জন্য—শুধু বিলবোর্ড বা মিডিয়ার উন্নয়ন নয়।”
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন—
“যাদের ঘামে দেশ চলে—তাদের মুখে হাসি না ফিরিয়ে আমরা কখনোই প্রকৃত উন্নয়ন করতে পারব না। চালক, কৃষক, শ্রমিকের অধিকারই আমার রাজনীতির মূল ভিত্তি। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।”
চালক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ কাইয়ুম উদ্দিন হিরক, গাংনী আসমানখালী সাংগঠনিক থানা আমীর মোঃ আব্বাস উদ্দিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল ।
আরও উপস্থিত ছিলেন গাংনী-আসমানখালী সাংগঠনিক থানা সেক্রেটারী মোঃ কামরুল হাসান সোহেল,
নায়েবে আমীর মাওলানা মনির উদ্দিন ও মোঃ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি মোঃ শামীম রেজা, হারদী কলেজ সভাপতি মোঃ শাওন হোসেন রুমন, জি.এ. কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম মামুন, শাহজাহান মিয়া ও মোঃ ফরিদ উদ্দিন, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন আমীর খন্দকার মাওলানা মাসুদুর রহমান,সেক্রেটারি মোঃ রায়তাল হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জি.এ সাংগঠনিক থানা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইকরামুল হক, অর্থ সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান, উপজেলা ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ হামিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা আগামীর বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও দোয়াই এই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।
