কুমিল্লা প্রতিনিধি :
এটাই জামায়াতে ইসলামীর প্রকৃত সৌন্দর্য—যা সবাই অনুভব করতে পারে না, বোঝাও সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। নীতি, আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলার ওপর অবিচল থাকার যে সংস্কৃতি জামায়াত গড়ে তুলেছে, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
কুমিল্লার মোট ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাংগঠনিক শক্তিমত্তার দিক থেকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)-এর পরেই যে আসনটির নাম উঠে আসে, তা হলো কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার)। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও নিরবচ্ছিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই আসনে জামায়াত একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে।
বিশেষ করে এই আসনে সাইফুল শাহেদ ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি নিজের জীবনের বড় একটি অংশ উজাড় করে দিয়ে দেবিদ্বারের জামায়াতি সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেকের কাছেই জামায়াতের চেয়ে ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম শহিদ ছিলেন বেশি গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত মুখ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা যেসব আসনে ছিল, তার শীর্ষে ছিল কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার)। বাস্তবতা ছিল—এই আসনে জামায়াত প্রার্থী দিলে বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল।
কিন্তু এখানেই জামায়াতের নীতি ও আদর্শের প্রকৃত পরীক্ষাটি সামনে আসে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আসার পর কোনো ধরনের দ্বিধা বা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ না করে সাইফুল শাহেদ ভাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা সম্ভাব্য বিজয়কে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বাগ্রে স্থান দেন।
এই সিদ্ধান্তের পর দেবিদ্বারে দেখা যায়নি কোনো কাফন মিছিল, মশাল মিছিল কিংবা বিশৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া। বরং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনড় থেকে নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। এটি প্রমাণ করে—জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি আবেগনির্ভর নয়, বরং আদর্শনির্ভর।
যতই জামায়াতকে নিয়ে সমালোচনা, ব্যাশিং বা অপপ্রচার করা হোক না কেন, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—জামায়াতের নীতি, আদর্শ এবং দলীয় কমান্ড কাঠামোর সামনে এসব অপপ্রচার কার্যত শূন্য। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং আদর্শিক দৃঢ়তাই জামায়াতকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
দেবিদ্বারের এই ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—ক্ষমতা নয়, আদর্শই জামায়াতের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।
