ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব অবহেলা, কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. আব্দুল জব্বার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান না করেই প্রায় চার মাসের বেশি সময় চাকরিবিহীন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া নিজের অনুকূলে নিয়ে আবারও পূর্বের পদে বহাল থাকার ব্যবস্থা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে আসছেন।
এ বিষয়ে তদন্তের জন্য আগেও দপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজের পদায়ন পাকাপোক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি জারি করা এক সরকারি চিঠিতে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ডা. আব্দুল জব্বার নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, নির্ধারিত অফিস সময় মানেন না এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এসব সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সংসদ সদস্যের সুপারিশ দেখিয়ে নিয়মিত ২০ থেকে ৩০ জন রোগীকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেফার করেন, অথচ নিজে হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। এর ফলে সরকারি হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—ডা. আব্দুল জব্বার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও পূর্ববর্তী তদন্ত কার্যক্রমগুলো চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর কোনো দৃশ্যমান পরিণতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সর্বশেষ অভিযোগের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছেও।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন,
“যদি তিনি নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে এতদিন তাকে কারা আশ্রয় দিয়েছে?”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“হাসপাতালে গেলেই দেখা যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অথচ নথিতে সবকিছু ঠিকঠাক।”
এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং এটি তুলে ধরে—রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকলে কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দায়িত্বে অবহেলা করেও বহাল থাকতে পারেন।
