বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩:০৭ পিএম,১০ বৈশাখ ১৪৩৩বৃহস্পতিবার ৩:০৭ পিএম
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩:০৭ পিএম,১০ বৈশাখ ১৪৩৩বৃহস্পতিবার ৩:০৭ পিএম
কনভার্টার
ফটোকার্ড
সব খবর

নামাজের সময়-সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৭
  • ১২:০১
  • ৪:৩০
  • ৬:২৫
  • ৭:৪২
  • ৫:৩৪
1767699617439
Listen to this article

নিউজ ডেস্ক :

ঢাকা: জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ঘিরে চাঁদাদাবির মামলায় একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসায় পুলিশি কার্যক্রম ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে “৫০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি” শিরোনামে খবর প্রকাশ হলেও মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযোগের অঙ্ক মাত্র পাঁচ লাখ টাকা

এই তথ্যগত বিভ্রান্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন জুলাইযোদ্ধাদের একটি অংশ। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বয়স সংক্রান্ত ভুল ও রিমান্ড বিতর্ক

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়স সংক্রান্ত তথ্য। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী সুরভীর বয়স যেখানে ১৭ বছর, সেখানে পুলিশি নথিতে তাকে ২১ বছর উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ছাড়াই আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজীপুর জেলা জজ আদালত রিমান্ড বাতিল করে জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়।

গণমাধ্যমে তথ্য যাচাই না করার অভিযোগ

পাঁচ লাখ টাকার অভিযোগ কীভাবে ৫০ কোটিতে রূপ নিল—সে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইযোদ্ধারা দাবি করছেন, যাচাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং এতে একজন কিশোরীর বিরুদ্ধে জনমত ক্ষুব্ধ হয়েছে।

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

কালিয়াকৈর থানা সূত্র জানায়, চাঁদাবাজির মামলার আগে বাদী সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন সুরভী নিজেই। তবে পরবর্তীতে চাঁদাবাজির মামলা হওয়ায় ওই অভিযোগটি গুরুত্ব পায়নি পুলিশের কাছে।

এই বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—একটি স্পর্শকাতর অভিযোগ কীভাবে কার্যত উপেক্ষিত রইল?

পুলিশের বক্তব্য

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, মামলার ডকেট তিনি নিজে দেখেননি এবং রুটিন দায়িত্বের অংশ হিসেবেই গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বয়স সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ধর্ষণচেষ্টা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নথি দেখে জানানোর কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুকও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

সার্বিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। বয়স, অভিযোগের অঙ্ক ও পাল্টা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আপনার এলাকার খবর