বিশেষ প্রতিবেদন :
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে ওসমান হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ—আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওসমান হাদির চিকিৎসায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “তার সুস্থতার জন্য দেশবাসী দোয়া করছে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও সরকার নিশ্চিত করবে।”
সাক্ষাতে ওসমান হাদির বোন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিলেন এবং বিপ্লবী চেতনায় বিশ্বাস করতেন। বিদ্রোহী কবিতা ছিল তার প্রিয়। তিনি আরও বলেন, “হাদির একটি ১০ মাসের সন্তান রয়েছে। সে আমাদের পরিবারের শক্তি। তার অনেক দায়িত্ব এখনো বাকি, তাকে বাঁচতেই হবে। আপনারা বিপ্লবী সরকার—জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের রক্ষা করা না গেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “৫ আগস্টের পর অনেকেই নিরাপদে ঘরে ফিরলেও ওসমান হাদি ফেরেনি। সে জুলাই বিপ্লবের আদর্শ ধারণ করে দিনরাত কাজ করেছে। হামলাকারী আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল—কীভাবে সে জামিন পেল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
এ সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ফাতিমা তাসনিম জুমা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, “অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। ঘটনার পেছনের সব দিক বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।”
সাক্ষাৎকালে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
