দিনাজপুরে এক হৃদরোগীর মৃত্যু কেন্দ্র করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সংঘর্ষের জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় জরুরি বিভাগের সেবা, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে আব্দুর সামাদ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব পোস্ট সিসিইউতে ভর্তি হন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা শুরু করেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা অভিযোগ করেন, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত প্রায় ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় জরুরি চিকিৎসা সেবা।
জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় ভোর ৬টা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিপাকে পড়েন। অনেক রোগীকে চিকিৎসা না পেয়ে বিকল্প হিসেবে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হতে দেখা যায়। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমানের নির্দেশে জরুরি বিভাগের তালা ভেঙে পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হয়।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবার মান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা প্রতিরোধে হাসপাতাল প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
