জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্যের ওপর ছাত্রদল কর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।
দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে তার ছেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মারধর এবং বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর ছেলে একটি দলের পোলিং এজেন্ট ছিলেন।
পঞ্চগড়ে কয়েকটি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হামলা।
বাগেরহাট-৪ আসনে আল-আমিন নামে এক যুবককে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট এলাকায় কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হামলা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোয়াখালীর সেনবাগে এক জামায়াত নেতার ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
উখিয়ার করম মুহুরীপাড়া এলাকায় হামলায় কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামে ভোট নিয়ে তর্কের জেরে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
খুলনায় এক শিক্ষার্থীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।
পাটগ্রামে একাধিক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বরিশালে এক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের জেরে তার ছেলের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
চট্টগ্রামে এক সাবেক ছাত্রনেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চকরিয়া, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, মারধর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও জামায়াত বা শিবির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, আবার কোথাও প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।প্র
শাসনের অবস্থান
এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
