বিশেষ প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প অফিসে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তেজনায় ফেটে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযোগ উঠেছে, ছয় হলের কয়েকজন জাকসু প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করে হঠাৎই প্রকল্প অফিসে ঢুকে কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং পরে অফিসের মূল দরজায় তালা লাগিয়ে দেন।
প্রকল্প অফিসের কর্মচারীদের দাবি—ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে তারা সামলে উঠতেই পারেননি। এ সময় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে হুমকি-ধামকি ও গালিগালাজের মতো আচরণও নাকি করতে হয়েছে তাদের। কর্মচারীরা জানান, ঘটনার অডিও প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও দপ্তরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ ধরনের আচরণকে “গঠনতন্ত্রবহির্ভূত ও অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেন। বিকেল থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা শুরু করে।
সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠক হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়—জাকসুর কোনো প্রতিনিধি প্রকল্পের নথিপত্র চাওয়া বা অফিসে তালা লাগানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না; এটি জাকসুর গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। বৈঠকে অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প নথি সংগ্রহ করতে প্রকল্প পরিচালককে চাপও দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর জাকসুর প্রতিনিধি দল তালা খুলে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। তাদের দাবি—একটি সংগঠিত মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর আজকের ঘটনা তারই অংশ।
ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ছাত্রসংগঠনের একটি অংশ কীভাবে প্রশাসনিক দপ্তরে এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে, এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নেবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
