নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)।
বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল সম্পত্তি দখলের লোভ। ইতোমধ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমানের বাবা সম্প্রতি তাঁর সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। এর মধ্যে বড় অংশ হাবিবুরকে দেওয়ায় তাঁর বোনদের পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম, তাঁর ছেলে শাহিন এবং ভাগনে সবুজ রানা হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন রাতে তারা কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে হাবিবুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে। পরে তাঁর স্ত্রীকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। শেষে পরিবারের কোনো সদস্য যেন বেঁচে না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে দুই শিশুকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ রানা হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি হাসুয়া ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, পুরো পরিবারকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল যাতে ভবিষ্যতে সম্পত্তির দাবিদার কেউ না থাকে এবং অভিযুক্তরা সহজেই সেই সম্পত্তি দখল করতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
