রাজধানীর একটি আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর নাম লামিসা । এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েক মাস আগে পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনে বাসা ভাড়া নেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় হলেও শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভবনের পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি জুতা দেখতে পান স্বজনরা। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তারা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেন।
কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পুলিশ জানায়, ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় যার মাথা ছিলো আলাদা। পরবর্তীতে বাথরুম থেকে দেহের বিচ্ছিন্ন করা মাথা উদ্ধার করা হয়। পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হত্যার পর মরদেহ গোপনের পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। তাদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
