বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৭:২৭ পিএম,২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩বুধবার ৭:২৭ পিএম
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৭:২৭ পিএম,২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩বুধবার ৭:২৭ পিএম
কনভার্টার
ফটোকার্ড
সব খবর

নামাজের সময়-সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৫
  • ১২:০০
  • ৪:৩৫
  • ৬:৪৬
  • ৮:১১
  • ৫:১০
IMG-20260523-WA0173
Listen to this article

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী শহরের অলিগলি কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস—যেখানেই যান, ভেসে আসে মধুর বাঁশির সুর। কাঁধে একটি ঝোলা ব্যাগ আর হাতে নানা ধরনের বাঁশি নিয়ে ঘুরে বেড়ান গণেশ চন্দ্র সেন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাঁশি বিক্রি করেই চলছে তার জীবন-জীবিকা। সুর আর সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাকে এই পেশার সঙ্গে আজও বেঁধে রেখেছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা গণেশ চন্দ্র সেন ছোটবেলা থেকেই সংগীতপ্রেমী। পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি থেকে শুরু করে পুরোনো বাংলা সিনেমার গান—সবকিছুর সুরই দক্ষতার সঙ্গে তুলতে পারেন তিনি বাঁশিতে। শুধু তাই নয়, ক্রেতাদের বাঁশি বাজানোর কৌশলও শিখিয়ে দেন আগ্রহ নিয়ে। নিজের মতো করে গান লিখে সুর করতেও ভালোবাসেন এই মানুষটি।

তবে জীবনের বাস্তবতা তার স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। ইচ্ছে ছিল কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে গান করার, সংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার। কিন্তু প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। অভিমান করে একাধিকবার এই পেশা ছাড়তে চাইলেও শেষ পর্যন্ত বাঁশির সুরই তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো জীবনে।

সংসারে তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল তার। বর্তমানে তিন ছেলেই বিবাহিত। তবে ১৫ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার একমাত্র মেয়ে। সেই কষ্ট আজও বয়ে বেড়ান তিনি নীরবে। দারিদ্র্যের কারণে বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি। নিজের আগ্রহে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও জীবিকার তাগিদে থেমে যায় শিক্ষা জীবন।

সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত গণেশ চন্দ্র সেনের জীবনে বিলাসিতা বলতে কিছু নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁশিভর্তি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ান শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কখনো দু’বেলা খাবার জোটে, কখনো কাটাতে হয় অর্ধাহারে। তারপরও মুখে থাকে হাসি, আর হাতে বাজতে থাকে সুরেলা বাঁশি।

জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়েও থেমে যাননি এই সংগ্রামী মানুষটি। তার কাছে বাঁশি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি যেন জীবনেরই একটি অংশ। তাই প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বেরিয়ে পড়েন তিনি—রাজশাহীর পথে পথে সুর ছড়িয়ে মানুষের মন জয় করতে।

আপনার এলাকার খবর