জামজামি প্রতিনিধি : মোঃ মাছুম শাহ্
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের ভোদুয়া গ্রামের অহংকার, জমিদার পরিবারের প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্য, সফল শিক্ষক ও সমাজসেবক মোঃ আফজাল হুসাইন আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল আনুমানিক ৯০ বছরের অধিক।
মোঃ আফজাল হুসাইনের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ভোদুয়া গ্রামে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কর্মজীবনে তিনি একজন নিষ্ঠাবান ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পেশাগত জীবনের এক পর্যায়ে তিনি দুর্গাপুর স্কুলে বদলি হলেও পরবর্তীতে আবার নিজ গ্রামের স্কুলেই শিক্ষকতা জীবন শেষ করেন।
তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সফল শিক্ষক। তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে তার সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা আজও মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গ্রামের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোদুয়া গ্রামের ঈদগাহ ময়দান, মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। গ্রাম উন্নয়নের অগ্রভাগে থেকে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।
তিনি যেমন একজন সফল শিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন, তেমনি ছিলেন একজন আদর্শ পিতা। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে, সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, যিনি এলাকায় “গোল্ডেন মিয়া” নামেই সুপরিচিত। মেজো ছেলে একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোট ছেলে একজন ডাক্তার।
এলাকার উন্নয়নেও তার সন্তানদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলে এলাকাবাসী জানান।
তার ইন্তেকালে ভোদুয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সর্বস্তরের মানুষ এই গুণী শিক্ষকের রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য দোয়া করছেন।
মোঃ আফজাল হুসাইনের মৃত্যুতে শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়—এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।
আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
