ভোলা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম ও তার স্বামী সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি–ধমকি দেন এবং অযৌক্তিকভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেন। এছাড়া টিকা নিবন্ধন ও উপবৃত্তির নামে অভিভাবকদের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহায়তায় নুরুন নাহার বেগম অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক পদে বসেন। এরপর থেকে টাইম স্কেল ও এমপিওভুক্তির নামে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
সম্প্রতি সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলায়েত স্যারকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।
তারা অভিযোগ করেন, “প্রধান শিক্ষকের কারণে বিদ্যালয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে এবং শিক্ষকরা মুক্তভাবে কাজ করতে পারছেন না।”
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বেলায়েত মিয়া বলেন,
“সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা খুবই দুঃখজনক। অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন,
“বিদ্যালয়টি আমার স্বামীর সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে। কারও সঙ্গে আমি খারাপ আচরণ করিনি।”
ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজাহারুল হক বলেন,
“আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা বলেন,
“প্রধান শিক্ষকের অপসারণ না হলে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে না।”
তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
