নিউজ ডেস্ক :
আর্মির ভেতরে আজকে রদবদল হয়েছে। কিন্তু অনেকই বলছে এটা সাধারণ প্রশাসনিক বদলি না। এর ভেতরে লুকানো আছে বড় রাজনৈতিক সংকেত। আর সেই সংকেতটা কার জন্য সুখবর, সেটা বুঝতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়, ড. ইউনুসকে ভারত-নির্ভর কৌশল থেকে বের করে আনার জন্য যিনি নাকি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরামর্শ দিচ্ছিলেন, সেই পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুলকে হঠাৎ করে সরিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রদূত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিল থেকে সরাসরি ডিপ্লোম্যাটিক করিডরে পাঠিয়ে দেওয়া। এধরণের পোস্টিং সামরিক বাহিনীতে ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাসে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজুর রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ভারত-বাংলাদেশ সামরিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে মেজর জেনারেল পদে প্রমোশন দিয়ে সরাসরি ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বানানো হয়েছে।
জনগণের মনে আবারো অসুভ সংকেন ভর করছে।
এর মানে কী?
একজনকে সরানো হয়েছে, যাকে অনেকে “ইন্ডিয়া-স্কেপ্টিক” ভাবতেন। আরেকজনকে তুলে আনা হয়েছে, যিনি দিল্লি সার্কিটে কাজ করা অফিসার। বার্তাটা খুব সূক্ষ্ম না, বরং বেশ পরিষ্কার।
বিশ্লেষকর বলছেন
এখন আসল টেস্ট হবে সামনে।
ড. ইউনুস সরকারের সময় তুরস্ক-এর সঙ্গে যে প্রাথমিক সামরিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছিল,
যেমন:
ড্রোন কারখানা।
অটোকার সামরিক যান নির্মাণ।
সামরিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো।
এসব বাস্তবায়নের দিকে এগোয় কি না, সেটাই হবে প্রথম সূচক।
কারণ এই তুরস্ক-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত বরাবরই অস্বস্তিতে ছিল।
একইভাবে, পাকিস্তান থেকে সম্ভাব্য ১৭টি JF-17C Thunder যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা, সেটাও ছিল দিল্লির জন্য স্পষ্ট লাল সংকেত।
এই দুই প্রজেক্টের ভবিষ্যৎই বলে দেবে,
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল কি সত্যিই বহুমুখী পথে যাবে, নাকি আবারও একটি নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক বলয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
