সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই বাজার মল্লিকবাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইব্রাহিম হোসেন সিরাজীকে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ—তিনি নাকি জামায়াতে ইসলামীর একটি বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ইমাম বলেন,
“গত সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আমি এক চরম অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের শিকার হই। কোনো প্রকার তদন্ত বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই আমাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। অভিযোগ করা হয়—আমি রাজনৈতিকভাবে সন্দেহভাজন, অথচ আমি কোনো রাজনৈতিক কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।”
তিনি জানান, একটি রাজনৈতিক সন্দেহের ভিত্তিতে হঠাৎ করে মসজিদ কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে মসজিদে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশ দেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. আবু শাহিন মল্লিক।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন বলেন,
“আমি একজন হাফেজ, একজন আলেম ও একজন ইমাম। আমার কাজ হলো নামাজ আদায় করানো, কোরআন শিক্ষা দেওয়া এবং সমাজে নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,
“একজন ইমাম কি এ দেশের পূর্ণ নাগরিক নন? তাঁর কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই? ধর্মীয় দায়িত্ব কি এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে?”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন,
“এই ঘটনা শুধু আমার ব্যক্তিগত অপমান নয়; এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, আলেম সমাজের সম্মান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।”
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন,
“আমি কোনো সংঘাত চাই না, প্রতিশোধও নয়—আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আজ আমার সঙ্গে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো ইমামের সঙ্গেও তা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
