স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টেস্টে দুই দলের লড়াই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ৫৩১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে ৪৫৭ রানে থামলে ম্যাচ ড্র হয়। কিন্তু ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় টেস্টে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। ইনজুরিতে জর্জরিত পেস আক্রমণ নিয়েও স্বাগতিকরা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর সেই ধারাবাহিকতায় জ্যাকব ডাফির বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র তিন দিনেই ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়ের দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। এর ফলে সিরিজে এগিয়ে গেল কিউইরা, আর প্রথম টেস্টে আস্থার প্রতিচ্ছবি দেখানো ক্যারিবীয়রা পিছিয়ে পড়ল আবারও।
ওয়েলিংটন টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখন তারা এখনো পিছিয়ে ছিল ৪১ রানে। প্রথম টেস্টে যেভাবে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে বিশ্বের নজর কাড়েছিল সেই ক্যারিবীয় শিবির আজ পুরোই ব্যর্থতার গল্প লিখল। দিনের শুরুর সেশন থেকে শুরু করে মাত্র ৩৬.২ ওভার টিকতে পেরেই তারা হারায় বাকি আট ব্যাটার। দলীয় স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৯৬ রান, যা নিউজিল্যান্ডকে সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানের লিড নিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছিল টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন মাত্র ১২৮ রানে অলআউট হলো, তখন কিউইদের সামনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫৪ রান। লক্ষ্য ছোট হলেও পথে পড়ে এক উইকেট—তবু খুব বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা সেই রান তুলে নেয় এবং তিন দিনের মধ্যেই সিরিজে দাপুটে অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জ্যাকব ডাফি। তাঁর সুইং, গতি আর নিখুঁত লাইন-লেন্থের মুখে ব্যাট হাতে দাঁড়াতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সেও নিজের নাম লেখান।
