গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর এক নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি ফরিদ সরকার (৪০), তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর এলাকার কে.বি.এম ইটভাটায় দুর্বৃত্তরা ফরিদ সরকারকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরিদ সরকার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জামাল সরকারের ছেলে। তিনি এলাকায় জাসাসের একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বাবা জামাল সরকার জানান, ফরিদ মাটি, ইট ও বালির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে লতিফপুরের ইটভাটায় যাওয়ার কথা বলেন। পরে ভোররাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে ফরিদ গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তখন তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম রফিক প্রধান বলেন, ইটভাটার ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিষয়টি তিনি নিহতের পরিবারকে জানান।
কে.বি.এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিদ সরকার জানান, গভীর রাতে নৈশপ্রহরীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বাইরে গিয়ে ফরিদ সরকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি বলেও জানান তিনি।
নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাটার পাশে গিয়ে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি দ্রুত ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান।
এ ঘটনায় শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হেলাল প্রধানসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
