শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ 8:২৭ পিএম,২২ ফাল্গুন ১৪৩২শুক্রবার 8:২৭ পিএম
শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ 8:২৭ পিএম,২২ ফাল্গুন ১৪৩২শুক্রবার 8:২৭ পিএম
কনভার্টার
ফটোকার্ড
সব খবর

নামাজের সময়-সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:০৩
  • ১২:১৩
  • ৪:২৪
  • ৬:০৭
  • ৭:২০
  • ৬:১৬
IMG-20251119-WA0142
Listen to this article

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

শরীয়তপুর-৩ আসনে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। গোসাইরহাট উপজেলার ইকরাকান্দির মুন্সি বাড়িতে এক শিক্ষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই প্রার্থী শিক্ষায়, নৈতিকতায় ও জনসেবায় নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন। তার বাবা আব্দুল আজিজ মাস্টার ছিলেন এলাকার অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, আর মা বেগম রোকেয়া আজিজ ছিলেন এক অনুকরণীয় গৃহিণী। শৈশব থেকেই পারিবারিক নৈতিকতা, শিক্ষা ও মানবিকতার চর্চা তার মধ্যে গড়ে ওঠে।

শিক্ষা জীবনের দৃঢ় ভিত

গোসাইরহাটে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ডামুড্যা সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে আলিম এবং সুনামধন্য বাকীগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে ফাজিল সম্পন্ন করেন। পরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় সমান দক্ষ এই প্রার্থী অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষায় অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।

কর্মজীবন: শিক্ষকতা থেকে সমাজসেবা

পেশাজীবন শুরু হয় ঢাকার জামেয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা দিয়ে। এর পর তিনি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশনে প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে। সেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত জনপদে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে ব্যবসার জগতে প্রবেশ করে শরীয়তপুরের তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গড়ে তোলেন যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি হয়ে ওঠেন একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সমাজ উন্নয়নকর্মী।

সুশৃঙ্খল পরিবার ও শিক্ষিত সন্তানরা

তার সহধর্মিণী খালেদা পারভীন ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ও তাঁলীমুল কুরআনের মুয়াল্লিমা। তাদের এক কন্যা ও দুই পুত্র—তিনজনই দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ভাইদের মধ্যে যারা শিক্ষকতা, ব্যাংকিং এবং কৃষির মতো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত আছেন—তারা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

রাজনৈতিক জীবন: ছাত্র রাজনীতি থেকে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন তাকে কৈশোরেই রাজনীতিমুখী করে তোলে। শুরুতে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আদর্শগত অসঙ্গতির কারণে তা থেকে সরে এসে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ডামুড্যা থানা ও পরে মহকুমা ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যয়নকালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার ছাত্রশিবির সভাপতির দায়িত্ব পান।

পরে ‘হাসান আল বান্নাহ জোন’-এর পরিচালক হিসেবে বুয়েট, ঢাকা কলেজ, মেডিকেল কলেজসহ শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ছাত্রজীবন শেষে শরীয়তপুর জেলা জামায়াত এবং পরবর্তীতে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সাথেও কাজ করেন।

২০১০ সালে তিনি সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, কোষাধ্যক্ষ এবং ফরিদপুর অঞ্চল পরিচালক হিসেবে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।

কারাবরণ ও আন্দোলন

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হন। ২০১৭ সালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এক মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয় তাকে।

সামাজিক উদ্যোগ: গোসাইরহাট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

২০০৯ সালে দরিদ্র, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গোসাইরহাট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’। শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই তার প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ডামুড্যা ও গোসাইরহাটের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও তিনি কাজ করছেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য গঠন করেন ‘শরীয়তপুর-৩ উন্নয়ন ফোরাম’।

দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ-অসহায় মানুষ, কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে তিনি অঞ্চলে এক মানবিক ও সমাজমনস্ক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজসেবা, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম রেখে চলেছেন নিরবচ্ছিন্ন অবদান। শরীয়তপুর-৩ আসনে তিনি শুধুমাত্র একটি দলের প্রার্থী নন; বরং শ্রমজীবী, কৃষক, তরুণ এবং পিছিয়ে থাকা মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জনসেবার ইতিহাস ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

-আবু রুফাইদা

আপনার এলাকার খবর