আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার বক্তব্যে খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা হত্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লেখেন, “আমাদের মহান নেতার ওপর হামলা মানেই ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।”
তিনি দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন। তার মতে, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইরানের সাধারণ মানুষ ভয়াবহ আর্থিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন সরকার ও তাদের মিত্রদের শত্রুতামূলক আচরণ এবং নিষ্ঠুর অর্থনৈতিক অবরোধ ইরানিদের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
অন্যদিকে, একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খামেনির কড়া সমালোচনা করে তাকে “অসুস্থ মানসিকতার মানুষ” বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, ইরানের উচিত সাধারণ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা ৮ ও ৯ জানুয়ারি সহিংসতায় রূপ নেয়। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এতে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এই প্রাণহানির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন খামেনি। তার অভিযোগ, বিক্ষোভে উসকানি দিতে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
