কুমিল্লা প্রতিনিধি :
আগের স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার আওতায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই নির্বাচনে চালিভাঙ্গা, ভাওরখোলা ও মানিকারচর ইউনিয়নে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। একই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের আগেও প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র এবার ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। ফলে এখানে জামায়াতপন্থী জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে ৯৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আগের নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে এবার ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা কমেছে। এই আসনের ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় এনে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়—১৫৯টি। এখানকার সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এবং শতভাগ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এছাড়া দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোট, বুড়িচং, লালমাই, বরুড়া, আদর্শ সদরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, দুর্গম হওয়ায় ওই ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
