কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : মোঃ রাশিদুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মুকুলের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক মুকুল ভোটারদের উদ্দেশে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট দিলে মুন্সিরঘর জয়ী হবে।’ তিনি দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে ভিডিওতে উঠে আসে।
এমদাদুল হক মুকুল রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে বিষয়টিকে তিনি ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে বলা মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ছিনাই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের মধ্যে প্রচারণার সময় মুকুল ও তার সঙ্গে থাকা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। তারা ভোটারদের কাছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ফলাফল কী হতে পারে—তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এমদাদুল হক মুকুলকে নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আরেকটা ব্যালটে হ্যাঁ আর না থাকবে। না ভোট দিবেন। হ্যাঁ ভোট দিলে মুন্সিরঘর জয়ী হবে। হ্যাঁ দেওয়া যাবে না।’
এ সময় তার পাশে থাকা যুবদল নেতা রোকন বলেন, ‘ওটা হবে না আর ধানের শীষ।’
আর ভিডিও ধারণকারী এক অজ্ঞাত বিএনপি কর্মী মন্তব্য করেন, ‘না ভোট হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।’
পরবর্তীতে মুকুল আরও বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট দিলে মুন্সিরঘর একাত্তর শেষ করে দেবে।’ তার বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় যুবদল নেতা রোকন উপস্থিত হিন্দু নারী ভোটারদের বলেন, ‘না ভোট মুজিবের শক্তি, একাত্তরের শক্তি।’
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এমদাদুল হক মুকুল বলেন,
‘ধানের শীষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ভুল করে না ভোটের কথা বলা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে এমনটা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই। আমি দুঃখিত।’
তিনি আরও বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি সংস্কার ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভুল করে এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাজারহাট উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন,
‘এ ধরনের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। আপনি হ্যাঁ কিংবা না—যেটার পক্ষেই থাকুন, জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। না হলে সেটা রাজনৈতিক অজ্ঞতারই প্রকাশ।
