বিশেষ প্রতিনিধি : মাওলানা হাবিবুল্লাহ
দুর্বল ঈমানের লোকদের দিয়ে জিহাদ অসম্ভর। এ জন্য আল্লাহর পথে জিহাদ করতে হলে যেসব পর্যায় অতিক্রম করে ময়দানে আল্লাহর। সৈনিকে পরিণত হতে হয়, এসব স্তর অতিক্রম করে আসাটা বেশ কষ্টসাধ্য। এ কারণেই আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মর্যাদা সবচেয়ে বেশী দ্বীন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার কাজে যারা লিপ্ত তাদের মর্যাদার তুলনা হয়না। বিশ্বনবী (সা:) ঘোষণা করেছেন, একটি সকাল অথবা একটি বিকাল আল্লাহর পথে অতিবাহিত করা পৃথিবী ও দুনিয়ার সমস্ত জিনিসের থেকেও উত্তম।
(বোখারী)
আল্লাহর দেয়া বিধান প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচী বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা যারা করে, তাদের সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যে বান্দার দুটো পা আল্লাহর পথে ধুলি ধূসরিত হবে কঠিন জাহান্নামের আগুন তার ঐ পা দুটোকে কখনই স্পর্শ করতে পারবে। না।
(বোখারী)
বুখারী শরীফের হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে প্রিয় কাজ গুলির মধ্যে আল্লাহর প্রতি জিহাদ করা অন্যতম প্রিয় কাজ! ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে গিয়ে কোন ব্যক্তি যদি বিরোধী শক্তির হাতে নিহত হয় তার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে?
وَ لَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتٌ ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّ لٰكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ
অর্থ: ঈমানদারদের মধ্যে যেসব লোক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রাম ও এর প্রচার-প্রসার করতে গিয়ে মানুষের তৈরি করা মতবাদের অনুসারীদের দ্বারা নিহত হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না! বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমার প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতা অনুধাবন করতে সক্ষম নও?
(সূরা বাকারা-১৫৪)
ইসলামী আন্দোলন করতে গিয়ে যদি কেউ নিহত হয় অথবা বিজয়ী হয় তাদের সর্বোত্তম পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَلْیُقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ الَّذِیْنَ یَشْرُوْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا بِالْاٰخِرَةِ ؕ وَ مَنْ یُّقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیُقْتَلْ اَوْ یَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا
فَيُقْتَلْ أَوْ يُغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٧٤)
অর্থ:অতএব তারা যেন ইসলামী আদর্শের প্রচার প্রসার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করে, যারা পরকালীন জীবনে বিনিময় পাবার আশায় দুনিয়ার জীবনকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আর যে ব্যাক্তি কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করবে এবং এ কাজ করতে গিয়ে নিহত হবে বা বিজয় অর্জন করবে, এর যে কোনো অবস্থায়ই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করবো।
(সূরা নিছা-৭৪)
হযরত সাহল ইবনে সাদ (সা:) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া পৃথিবী ও পৃথিবীর উপরস্থ সমস্ত কিছুর থেকেও উত্তম। আর জান্নাতে তোমাদের কারো এক চাবুক পরিমাণ স্থান পৃথিবী ও তার উপরস্থ সবকিছু থেকে উত্তম। আর সন্ধ্যায় আল্লাহর পথে বের হওয়া অথবা সকালে বের হওয়া পৃথিবী ও তার উপরস্থ সমস্ত কিছু থেকে উত্তম।
(বোখারী, মুসলিম)
ইসলামী আন্দোলন কর্তৃক যে দায়িত্ব দেওয়া হয়! এই দায়িত্ব পালনকারী আল্লাহর পথের সৈনিকের মর্যাদা আকাশচুম্বী।
হযরত সালমান (রা:) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা:) বলেন, একদিন ও একরাত ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা দেয়া এক মাস যাবৎ রোযা পালন ও রাতে ইবাদাত করার থেকেও অধিক মূল্যবান। এ অবস্থায় যদি কেউ ইন্তেকাল করে তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল ইন্তেকালের পরও তা তার জন্য জারী থাকবে, তার রিযিকও জারী থাকবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকে সে থাকবে নিরাপদ।
(বোখারী)
হযরত ফাদালা ইবনে উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন, ইন্তেকালের পর প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির কর্মধারা নিঃশেষ করে দেয়া হয়। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা দেয় তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি লাভ করতে থাকবে এবং কবরের আযাব থেকে সে নিরাপদ থাকবে।
(বোখারী)
বর্তমানে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত নেই, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনের দেয়া দায়িত্ব পালন করাও ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা দেয়ার শামিল। সুতরাং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে তাঁদের মর্যাদাও অনুরূপই হবে, যারা ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা দেয়।
হযরত উসমান (রা:) বর্ণনা করেদ, নবী করীম (সা:) বলেন, আল্লাহর পথে একদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহবা দেয়া হাজার দিন অন্যান্য সওয়াবের কাজে নিয়োজিত থাকার চেয়েও উত্তম।
(আবু দাউদ-তিরমিযী)
@ নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে?
@ শহীদ আল্লামা দিলাওয়ার হোসেইন সাঈদী?
